বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৩৭ অপরাহ্ন

Welcome! Thank you for visiting our newspaper website.
প্রধান সংবাদ :
গৌরনদীতে সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারায় চলাচলের রাস্তা কেটে ফেলে নরসুন্দরকে নির্যাতন মানুষ মদিনার ইসলামে বিশ্বাসী, ‘মওদুদীর ইসলামে’ নয় : সালাহউদ্দিন আহমেদ কবে দেশে ফিরছেন তারেক রহমান, জানালেন পিএস নূরউদ্দিন অপু বাকেরগঞ্জে বিএনপি নেতাদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার মামলায় ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার বানারীপাড়ায় অগ্নিকান্ডে দুটি বসত ঘর পুড়ে ছাই বরিশালে এখন সাংবাদিকতা মানে চা আর কমিশন! ট্রাম্পের ভাষণের সময় ইসরায়েলের পার্লামেন্টে ‘ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি’র দাবি তুলেছেন এমপি আইমান ও কাসিফ দ্রুত দেশে ফিরে নির্বাচনে অংশ নিবেন তারেক রহমান বরিশাল মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রুস্তম আলী মল্লিকের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের দোসরদের পুনর্বাসনের অভিযোগ বরিশালে সুরুজ গাজী হত্যার নেপথ্যে যুবদল নেতা উলফাত রানা রুবেলের চাঁদাবাজির ভাগ-বাটোয়ারা!
বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ হাজার দোকান পুড়ে গেছে, ফায়ার সার্ভিসের অবহেলা!

বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ হাজার দোকান পুড়ে গেছে, ফায়ার সার্ভিসের অবহেলা!

বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ হাজার দোকান পুড়ে গেছে, ফায়ার সার্ভিসের অবহেলা!
বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ হাজার দোকান পুড়ে গেছে : ফায়ার সার্ভিসের অবহেলা!

ইউনিভার্সেল নিউজ ডেস্ক : রাজধানীর বঙ্গবাজারে মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) ভোর ৬টা ১০ মিনিটে অগ্নিকাণ্ড শুরু হয়। অগ্নিকাণ্ডে বঙ্গবাজার মার্কেটের আড়াই হাজারসহ আশপাশের মার্কেট সব মিলিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার দোকান পুড়ে গেছে বলে দাবি করেছে দোকান মালিক সমিতি। বঙ্গবাজার মার্কেট থেকে লাগা আগুন একে একে পাশের গুলিস্তান মার্কেট, আদর্শ মার্কেট, এনেক্সকো টাওয়ার ও মহানগর মার্কেটে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের ৪৮টি ইউনিটের চেষ্টায় দুপুর ১২টা ৩৬ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বঙ্গবাজার অগ্নিকাণ্ডে ফায়ার সার্ভিসের অবহেলাকে দায়ী করছেন মার্কেটের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

ফায়ার সার্ভিসের অবহেলা

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী হোসাইন বলেন, ‘৬টা বাজে যখন আগুন লাগছে তাগোরে ডাক দিলে তারা বোতল (আগুন নির্বাপক) নিয়া আসছে আগুন নিভাইতে। কিন্তু আগুন নিভে না। তাদের বলছি পানির গাড়ি নিয়া আসেন। তারা বলে ওপর থেকে আমাদের হুকুম আসে নাই। হুকুম আসছে ৭টার পরে। পরে গিয়ে তারা পানি নিয়ে আসছে, সেটারও স্পিড নাই। সারা দেশের ফায়ার সার্ভিসের মেইন অফিস এইখানে, আর এইখানে বলে তাদের পাম্পে পানি নাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি ৮টার দিকে তাদের বলছি পানি বাড়ান। তারা বলে বছরে দুই একবার আগুন লাগবোই, ঈদে আগুন লাগেই।’
সিদ্দিকবাজার ফায়ার সার্ভিসে আগুন নেভানোর জন্য পর্যাপ্ত পানি ছিল না মন্তব্য করে আরেক ব্যবসায়ী সুলতান বলেন, ‘বাংলাদেশের ফায়ার সার্ভিসের হেড অফিস এটা, এইখানে পানি থাকবো না তো কই থাকবো। সকালে তাদের যথেষ্ট পানি ছিল না। পরে ঢাকার অন্যান্য জায়গা থেকে ফায়ার সার্ভিসের লোক এসে আগুন নেভানোর কাজ করছে।’
আগুন লাগার পেছনে ফায়ার সার্ভিসকে সরাসরি দায়ী করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসই লাগাইছে আগুন। তারাই প্রত্যেক সপ্তাহে মহড়া দেয় এই মার্কেটে। আজকে তারা পানি দেয়, পানি আগুন পর্যন্ত পৌঁছায় না। যেইখানে আগুন লাগছে তার উল্টা পাশে ফায়ার সার্ভিস কিন্তু, আগুন নিভলো না, পুরাটা পুইড়া ছাই হইয়া গেছে, বিশ্বাস হয়!’
ফায়ার সার্ভিস সকালে মার্কেট রক্ষার চাইতে পাশে থাকা পুলিশ হেডকোয়ার্টার রক্ষায় বেশি গুরুত্ব দিয়েছে মন্তব্য করে আরেক ব্যবসায়ী নাঈম বলেন, ‘শুরুতে এত ঘটনা ঘটতোই না। যখন সকালে আমি আসি তখন ওপরে একটু আগুন ছিল, তখন ঠিকমতো পানি দিলে একটা দুইটা দোকান পুড়তো। কিন্তু তারা হাতে কইরা আগুন নিভানোর দুইটা বোতল নিয়া আসছে। পরে যখন আগুন লাগছে তখন পুলিশ হেডকোয়ার্টারের দিকে পানি দিতাছিল যেন সেই দিকে আগুন না যায়।’
এর আগে সকাল ৯টা ২০ মিনিটে ঘটনাস্থলের অপর পাশে অবস্থিত ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের প্রধান কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন বিক্ষুব্ধরা।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি বললেন

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, আমাদের জানা মতে, শুধু বঙ্গবাজার কাঠের মার্কেটেই আড়াই হাজারের মতো দোকান রয়েছে। এখানে ছোট ছোট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা দোকান করেন। সামনে ঈদ, সবাই ঈদ কেন্দ্রিক বেচাকেনার জন্য পণ্য তুলেছেন দোকানে। এমন সময় এ অগ্নিকাণ্ড বড় ধরনের ক্ষতি ডেকে এনেছে। তিনি বলেন, এ ব্যবসায়ীদের পুঁজি বলতে দোকানের মালামালই। মালামাল পুড়ে গেলে তাদের আসলে পুঁজি বলতে সব শেষ।

ছয় ঘণ্টা চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে

সকাল আটটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ৪১টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। এরপর ৪৩টি ইউনিট যাওয়ার খবর জানায় ফায়ার সার্ভিস। ৪৮টি ইউনিটের প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
আগুনে বঙ্গবাজার এলাকার মোট ছয়টি মার্কেট পুড়ে গেছে। এরমধ্যে চারটি পুরোপুরি ও দুটি আংশিক পুড়েছে। দোকান মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পাঁচ হাজারের বেশি দোকান পুড়ে গেছে। আর্থিক ক্ষতি হয়েছে আনুমানিক কয়েক হাজার কোটি টাকা।

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনটি প্রতিবন্ধকতা

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, সকাল ৬টা ১০ মিনিটে আগুন লাগে। দুপুর ১২টা ৩৬ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এখন আর আগুন ছড়াবে না। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের ৪৮টি ইউনিট কাজ করেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনটি প্রতিবন্ধকতার কথা বলেছেন মহাপরিচালক। তিনি বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রধান বাধা ছিল উৎসুক জনতা। পানির স্বল্পতা ও বাতাসের কারণেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দেরি হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, উৎসুক জনতার কারণে কাজ করতে সমস্যা হয়েছে। তিনি তাঁর নিজের করা একটি ভিডিও গণমাধ্যমকর্মীদের দেখিয়ে বলেন, ‘কোন জায়গা দিয়ে আমরা ফায়ার সার্ভিস কাজ করব। কোথায়, কীভাবে ফায়ার সার্ভিসের লোক কাজ করবে? আমরা তো আপনাদের জন্যই জীবন দিচ্ছি।’
আগুন নেভাতে পানির স্বল্পতার কথা বলেন মহাপরিচালক মো. মাইন উদ্দিন। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী পানির বাউজার এনে এবং ওয়াসাও পানির বিষয়ে সহায়তা করেছে। আর ঘটনাস্থলে অনেক বাতাস ছিল। বাতাসে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় আগুন চলে যায়। এর ফলে নিয়ন্ত্রণে আনতে দেরি হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved ©2022-2026 universalnews24.com
Design By Ahmed Jalal.
Design By Rana